ভারতের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয় গুপ্ত যুগকে। গুপ্ত বংশের নামমাত্র প্রতিষ্ঠাতা শ্ৰীগুপ্ত । গুপ্ত বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় প্রথম চন্দ্রগুপ্তকে। প্রথম চন্দ্রগুপ্তের উপাধি মহারাজাধিরাজ। চন্দ্রগুপ্ত সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল পাটালিপুত্রে। গুপ্তদের সময়ে রাজতন্ত্র ছিল সামন্ত নির্ভর। গুপ্ত রাজাদের অধীনে বড় কোনো অঞ্চলের শাসককে বলা হতো মহাসামন্ত। মৌর্যদের মতো এদেশে গুপ্তদের রাজধানী ছিল মহাস্থানগড়ের পুণ্ড্রনগর।
প্রথম চন্দ্রগুপ্ত (৩২০-৩৪০ খ্রি.) ছিলেন ভারতে গুপ্তবংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।
উপাধি: তিনি প্রথম গুপ্ত রাজা যিনি 'মহারাজাধিরাজ' উপাধি গ্রহণ করেন। এটি তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক ছিল।
গুপ্তাব্দ (Gupta Era):প্রথম চন্দ্রগুপ্ত ৩২০ খ্রিস্টাব্দের (মতান্তরে ৩১৯-৩২০) সিংহাসনে আরোহণের সময় এই অব্দের প্রচলন করেন তাঁর সিংহাসন আরোহণ উপলক্ষে 'গুপ্তাব্দ' বা গুপ্ত সংবতের প্রচলন করেন। এটি পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈবাহিক সম্পর্ক: তিনি লিচ্ছবি রাজকন্যা কুমারদেবীকে বিবাহ করেন। এই বিবাহের ফলে তাঁর রাজনৈতিক শক্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
মুদ্রা: তাঁর সময়ে 'রাজা-রানী' শৈলীর স্বর্ণমুদ্রা প্রচলিত ছিল, যাকে 'লিচ্ছবি প্রকার' মুদ্রাও বলা হয়। মুদ্রার একপিঠে প্রথম চন্দ্রগুপ্ত ও কুমারদেবীর ছবি এবং অন্যপিঠে 'লিচ্ছবয়াঃ' (Licchavayah) কথাটি খোদাই করা ছিল।
সাম্রাজ্য বিস্তার: তিনি মগধ, সাকেত (অযোধ্যা) এবং প্রয়াগ (এলাহাবাদ) পর্যন্ত তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন।
উত্তরাধিকারী: তাঁর পর তাঁর পুত্র সমুদ্রগুপ্ত সিংহাসনে বসেন, যাঁকে 'ভারতের নেপোলিয়ন' বলা হয়।
Read more